ঢাকা: সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া সত্ত্বেও ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএসের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ পড়েছেন ৫৭ জন প্রার্থী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৬১১ জন প্রার্থীকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এই ৫৭ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও গেজেট থেকে বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ, হতাশা এবং একে “অন্যায় ও বৈষম্যমূলক” আখ্যা দিয়ে প্রজ্ঞাপন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
পিএসসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য মোট ৬৬৮ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৬১১ জনের নাম এলেও রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েন ৫৭ জন। প্রজ্ঞাপনে তাদের বাদ দেওয়ার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাদ পড়া প্রার্থীদের তালিকায় নিজ নিজ বিভাগে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীরাও রয়েছেন। ইতিহাস বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী সোহেল রানা এবং সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীসহ একাধিক শীর্ষ স্থানাধিকারী চূড়ান্ত গেজেটে নিজেদের নাম না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ মাস অপেক্ষা করার পর কোনোরকম স্বচ্ছতা ছাড়াই তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ধারণা, অস্পষ্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন কিংবা ভুল রাজনৈতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার মতো জটিল ধাপ পেরিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখার পর শেষ মুহূর্তে এভাবে বাদ পড়াকে স্বাধীন ও মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসনের ধারণার পরিপন্থী বলে মনে করছেন শিক্ষা ও সুশাসন সংশ্লিষ্টরা।
বঞ্চিত প্রার্থীরা দ্রুত এই গেজেট পর্যালোচনা করে পিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী বাদ পড়া সকল প্রার্থীকে অবিলম্বে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। দাবিকৃত ন্যায়বিচার না পেলে তারা প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের দিকে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

