পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক এবং টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শিমু মীরের বাসভবনে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কলাপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এতিমখানা রোডস্থ যুবলীগ নেতার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বাড়ির নিচতলা ও ওপর তলার জানালার কাচ ভেঙে চুরমার করে ফেলে এবং ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
তাণ্ডব চালানোর সময় ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল ও জানালার ভাঙা কাচের আঘাতে ঘরে অবস্থানরত যুবলীগ নেতার স্ত্রী, কন্যাসহ পরিবারের একাধিক নারী সদস্য গুরুতর আহত হন। গভীর রাতে ঘরের নারীদের ওপর এ ধরনের হামলা ও নির্যাতন সাধারণ মানুষকেও স্তব্ধ করে দিয়েছে।
মুঠোফোনে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান শিমু মীর বিএনপির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই কলাপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হয়ে আসছে। এই রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং জনসমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে দমাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাস ও ভীতি দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না। শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতেও জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের সংগ্রাম থেকে পিছু হটব না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাতের আঁধারে বাড়িতে ঢুকে নারী ও শিশুদের ওপর হামলা এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিএনপির অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। ৫ আগস্টের পর এ ধরনের হামলা প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার পুরোনো রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

