কক্সবাজার প্রতিনিধি: কানি কানি জমিতে আমন ধানের সবুজ স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার মতো সার নেই কৃষকের হাতে। মাত্র ১০ কেজি ইউরিয়া সারের জন্য ভোরের আলো ফোটার আগেই ডিলারের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা—টানা ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর কারও কপালে জুটছে সামান্য কিছু সার, আর অনেকে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন ঘরে। দেশের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা উখিয়ায় আমন মৌসুমের চরম মুহূর্তে সারের এমন হাহাকারে কৃষকের অসন্তোষ ও ক্ষোভ এখন তুঙ্গে।
এক নজরে মাঠের চিত্র
• দীর্ঘ অপেক্ষা: ভোর থেকে লাইন ধরে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে সর্বোচ্চ ১০ কেজি সার।
• বিশাল আবাদের বিপরীতে নগণ্য বরাদ্দ: ৫ থেকে ১৪ কানি জমিতে আমন চাষ করা কৃষকদের জন্য ১০ কেজি সার সমুদ্রের মাঝে শিশিরবিন্দুর মতো।
• সার পাচারের অভিযোগ: স্থানীয় ডিলার সমিতির মতে, একটি অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচার করার কারণে স্থানীয় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
• বাড়তি চাহিদা: প্রথাগত আমন চাষের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বনভূমি (পিএফ অঞ্চল), সুপারি বাগান ও গৃহস্থালি সবজি চাষের ফলে সারের চাহিদা সরকারি বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি।
কৃষকের ক্ষোভ ও হাহাকার
উখিয়ার সোনারপাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা যায় কৃষকদের ক্ষোভের চিত্র। কৃষক নুরুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, “সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সারের নিশ্চয়তা মেলেনি। যারা পেয়েছে, তারা মাত্র ১০ কেজি করে পেয়েছে। এত বড় আমনের জমিতে ১০ কেজি সার দিয়ে কী করব?”
কৃষকদের স্পষ্ট কথা—আমন ধানের এ এক সংবেদনশীল সময়। এখন সঠিক মাত্রায় সার না দিলে ফলন মারাত্মকভাবে বিপর্যয় ঘটবে।
প্রশাসনের আশ্বাস
কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার। তিনি জানান, আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ শুরু হয়েছে। যাদের কাছে একেবারেই সার পৌঁছায়নি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেওয়া হবে এবং দ্রুতই সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দাবি কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে অনতিবিলম্বে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ বাড়ানো হোক এবং সীমান্ত দিয়ে সার পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

