দিল্লিতে হাইকমিশনার ত্রিবেদীর আকস্মিক ছুট, তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা নিয়ে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জন
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা, ৬ অক্টোবর
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের এক অভাবনীয় ও বড় পটপরিবর্তনের জোরালো আভাস পাওয়া গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ দেশে প্রত্যাবর্তনের একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে—প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একাধিক কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্র এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে।
দীর্ঘ কয়েক মাসের গোপনীয় কূটনৈতিক দরকষাকষি ও পর্দার পেছনের নানা সমীকরণের পর ঢাকা ও দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের মধ্যে এই সমঝোতা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে তিনি ঠিক কোন মর্যাদায় এবং কোন দিনটিতে দেশের মাটিতে পা রাখছেন, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত আলোচনার টেবিলেই রয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই উত্তাল দিনটিতে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। ওয়াকিবহাল এক শীর্ষ কর্মকর্তার ইঙ্গিত থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে, ভারতীয় কোনো সামরিক বিমানে নয়, বরং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমানে করেই তিনি সেদিন দিল্লির উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও সম্প্রতি এক সেমিনারে স্পষ্ট করে বলেছেন, “যখন তিনি ভারতে যান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।”
অতি গোপনীয় এই কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সময় তাঁর পূর্ণ নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহল এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জন অসম্ভব। অন্যথায় যেকোনো পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা বা হস্তক্ষেপে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র বলছে, আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ভারত সফর নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি সেই পথে কিছুটা দেওয়াল তুলেছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে ঢাকা এখন কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সফরের বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্র দাবি করেছে যে, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের একটি অংশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অপসারণের চেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাপ্রধান জেনারেল জামানের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর সরকারের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে এক সুদূরপ্রসারী ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।

