নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও কেবল জন্মসূত্রে একটি নির্দিষ্ট জেলার বাসিন্দা হওয়ার কারণে গেজেট থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ফলাফল ও গেজেট প্রকাশের পর এই ঘটনায় চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ জন কৃতি তরুণ-তরুণী।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শিক্ষা ও অন্যান্য ক্যাডারে মোট ১১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গেজেটে নাম এসেছে মাত্র ২ জনের। বাকি ৯ জনই পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে বাদ পড়েছেন।
গেজেটভুক্ত হওয়া ওই দুজন (তন্ময় ও মো. অপু খান) জন্মসূত্রে গোপালগঞ্জের হলেও জীবনের দীর্ঘ সময় ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরে পড়াশোনা এবং বসবাস করেছেন। বাদ পড়া প্রার্থীরা বলছেন, এই একটিমাত্র ব্যবধানই তাঁদের জীবন থেকে স্বপ্নের চাকরি কেড়ে নিয়েছে।
গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য বিভাগে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাদ পড়াদের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
- আহম্মদ উল্লাহ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং নিজের বিভাগে মেধাক্রমে প্রথম। তাঁর বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।
- মো. নূরনবী শেখ: একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও মেধাক্রমে পঞ্চম।
- সোহাগ মণ্ডল: হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মেধাক্রমে তৃতীয়।
- বিপ্লব বাড়ৈ: সংস্কৃত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও মেধাক্রমে পঞ্চম।
- বুশরা জাহান ঐশী: ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও মেধাক্রমে ১৪তম।
- এ ছাড়া তালিকায় আরও রয়েছেন শেখ আরাফাত কবির, মো. সাজ্জাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলামের মতো মেধাবী মুখ।
বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা বা সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। অনেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
ফেসবুকে আক্ষেপ প্রকাশ করে মো. নূরনবী শেখ লিখেছেন, “গোপালগঞ্জের মানুষ হয়েও আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলাম। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় রাতভর পাহারা দিয়েছি। অথচ আজ শুধু জেলা পরিচয়ের কারণে সরকারি চাকরিতে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো!”
দিনমজুর ও কাঠমিস্ত্রির সন্তান মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বাবা দিন এনে দিন খেয়ে আমাদের পড়াশোনা করিয়েছেন। আজ যোগ্যতা অর্জন করেও কেন এই পরিণতি ভোগ করতে হলো, তার উত্তর মেলেনি।”
সার্বিক বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের একজন দায়িত্বশীল উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি গোপনীয় ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। এ ধাপে প্রতিবারই কিছু প্রার্থী বাদ পড়েন। সরকারের নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা মেনেই এই ভেরিফিকেশন করা হয়। তবে বাদ পড়া প্রার্থীদের কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়া বা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে নিয়োগ পেতেও পারেন।

