চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের ঠিক পরপরই এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার সাক্ষী হলো চিকিৎসাসেবা নেওয়া মানুষজন। স্ত্রীর সন্তান প্রসবের পরপরই ওষুধ কিনতে নিচে নামার পথে সাদা পোশাকের একদল লোক ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।
স্বজনরা জানান, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সন্তান প্রসবের জন্য স্ত্রীকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করান মো. হাসান। সকাল সাডে ১০টার দিকে সফল অস্ত্রোপচারের পর নবজাতক ও স্ত্রীর জন্য জরুরি ওষুধ কিনতে নিচে নামেন তিনি। ঠিক তখনই ৮ থেকে ১০ জনের (পরিবারের দাবি অনুযায়ী ২৫-৩০ জন) একটি সাদা পোশাকের দল ডিবি পরিচয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে জবরদস্তি তুলে নিয়ে যায়।
হাসানকে উদ্ধার করতে বা ঘটনার কারণ জানতে পরিবারের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা চেষ্টা করলেও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে স্বজনদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্কভিউ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, “ডিবি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তিনি মো. হাসান কিনা কিংবা তাঁকে জেলা ডিবি পুলিশই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে কিনা—সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”
ঘটনাটি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কিংবা স্থানীয় থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ এবং হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।
একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নবজাতকের মুখ দেখার পরপরই পরিবারের উপস্থিতিতে এমন জবরদস্তিমূলক আটকের ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। হাসানকে কোন মামলায় বা কোন গোয়েন্দা শাখা গ্রেপ্তার করেছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

