নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের চিকিৎসক, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএমএ)। এসব সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্বকারী এই বৈশ্বিক সংগঠনটি।
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ চিকিৎসকের প্রতিনিধিত্বকারী ডব্লিউএমএ-এর সভাপতি ড. জ্যাকলিন কিটুলু গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে এই আহ্বান জানান। জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী (সরকারপ্রধান) ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠিটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক হামলা, হুমকি এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি গভীর উদ্বেগজনক নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের দ্বারা হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে বলে ডব্লিউএমএ’র নজরে এসেছে। বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, দেশের একটি বড় অংশের স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে সহিংসতার শিকার হয়েছেন অথবা সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে যেকোনো ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডব্লিউএমএ বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা কেবল স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক বা মানসিক আঘাতই হানে না, বরং চিকিৎসাসেবার মান, ধারাবাহিকতা ও সহজলভ্যতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমায় এবং আগে থেকেই চাপের মুখে থাকা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
স্বাস্থ্য খাতে কর্মস্থলের সহিংসতা এবং চিকিৎসা কর্মীদের সুরক্ষা সম্পর্কিত ডব্লিউএমএ-এর আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও নীতিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব।
বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে চারটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ডব্লিউএমএ। সেগুলো হলো— স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি হামলার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, হাসপাতালে সহিংসতা প্রতিরোধ, রিপোর্ট প্রদান ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতের পদ্ধতিগত ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সহিংসতার মূল কারণগুলো দূর করা।
চিঠিতে ডব্লিউএমএ সভাপতি ড. জ্যাকলিন কিটুলু চিকিৎসা পেশাজীবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান, যাতে বাংলাদেশে সকল স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

