চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | ঢাকা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা নিম্নমানের খাবার খেয়ে অন্তত ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার শালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ডিম ও পাউরুটি বিতরণ করা হয়েছিল। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাবসহ শারীরিক অসুস্থতার কথা জানাতে শুরু করে।
শালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হোদা জানান,”খাবার বিতরণের পর প্রায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের খাবার খাওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিই। শিক্ষকেরা অবশিষ্ট খাবার পরীক্ষা করে দেখেন এবং কিছু খাবার থেকে বাসি-পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান জানান, বুধবার রাতে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ১০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নিম্নমানের বা বাসি খাবার খাওয়ার কারণে ফুড পয়জনিং থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে নিশ্চিত কারণ জানতে ল্যাব রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে সব শিশু শঙ্কামুক্ত হওয়ায় আজ সকালে তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম’ (গাক) এই বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করেছিল। ইতিমধ্যে খাবারটির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, জেলাটিতে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়; অতীতেও বিভিন্ন উপজেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

