নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে গভীর রাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর যাত্রা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২৪ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বিমানটি স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
উক্ত ফ্লাইটে ৮২ বছর বয়সী শাহিক খান নামক এক প্রবীণ ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও অ্যাজমাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শাহিক খান সেনাপ্রধানের মামা এবং এর আগেও তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন।
তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে মূল আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেনাপ্রধানের নিজে ওই বিমানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি। শাহিক খানের সঙ্গে ওই ফ্লাইটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ছাড়াও ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ এহসানুল হক, মোহাম্মদ জাহাদ হোসেন এবং রোগীর অন্য স্বজনরা ভ্রমণ করেন।
বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার এই সংবেদনশীল সময়ে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগতভাবে দেশত্যাগ করাটা অস্বাভাবিক। তাঁরা মনে করছেন, পরিবারের একজন অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য তিনি চাইলে অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব দিতে পারতেন।
এদিকে, এই সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি বা সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। গভীর রাতে এই নীরবে দেশত্যাগ এবং সুনির্দিষ্ট বিবৃতির অনুপস্থিতির কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনার ডালপালা মেলছে। এটি কেবলই একটি মানবিক ও পারিবারিক চিকিৎসা সফর, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কৌশলগত বা অভ্যন্তরীণ কারণ রয়েছে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনাপ্রধানের আগামী ৭ আগস্ট দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে। তবে এই সফর ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটতে এবং জনমনের প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর মিলতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

