ব্রাহ্মণবাড়িয়া | নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লতিফ হোসেন। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কারাবন্দি রয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক বিবেচনায় মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর গ্রেপ্তার নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারটি তাঁর দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারের ঘটনা বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলা, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের চেয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি নিজের জমিজমা বিক্রি করেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয় করেছেন বলে দাবি করেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। ২০২৫ সালে আকস্মিকভাবে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। জীবনের এই পর্যায়ে স্ত্রীকে হারানোর শোক, শারীরিক অসুস্থতা এবং কারাবাসের পরিস্থিতি তাঁর জন্য বাড়তি মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে তাঁর পরিচিতজনদের মধ্যে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা চলমান রয়েছে এবং এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। তবে অন্য মামলাগুলোর বিস্তারিত অবস্থা এবং সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই—এমন কোনো চূড়ান্ত দাবি না করে বর্তমান আইনি পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি।
মানবিক বিবেচনায় মুক্তির দাবি
রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের বাইরে একজন প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী জামিনের আবেদন বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
মোহাম্মদ লতিফ হোসেনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি অবস্থার ভিত্তিতে তাঁর জামিন ও মুক্তির আবেদন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিচয়ের পাশাপাশি আজ তাঁর বয়স, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন বাস্তবতাও আলোচনায় আসা প্রয়োজন। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রেখেই তাঁর চিকিৎসা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনসম্মত মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক—এটাই তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।

