ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৬:
দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। কিন্তু ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির আকাশে-বাতাসে আজও যেন ভেসে বেড়ায় সেই দুঃসহ আর্তনাদ, ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখার স্মৃতি। গত বছর (২০২৫ সালের) ঠিক এই দিনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তে ঘটেছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ‘মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডি’। আজ ২১শে জুলাই, সেই ভয়াল ও হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রথম বার্ষিকী।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দুপুর আনুমানিক ১টা। উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে তখন পুরোদমে ক্লাস চলছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে যান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রণজনিত ত্রুটির কারণে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই (FT-7BGI) প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান স্কুলের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ধংসস্তূপে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।ক্লাসরুমের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় এই বিপর্যয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলট এবং ২৮ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। আহত ও দগ্ধ হন ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের অনেকেই আজও সেই দিনের ক্ষত ও ট্রমা বয়ে বেড়াচ্ছেন। চোখের পলকে এক ঝাঁক স্বপ্নবান শিক্ষার্থীর জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার এই ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
আজ এক বছর পূর্ণ হলেও নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মন থেকে মুছে যায়নি সেই কালো দুপুরের স্মৃতি। সন্তানের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও কেঁদে আকুল হচ্ছেন মা-বাবারা। ধংসস্তূপের দাগ হয়তো সময়ের সাথে সাথে কিছুটা মুছে এসেছে, কিন্তু স্বজন হারানোর যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরেও শুকায়নি।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই উত্তরার ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে কোরআন খতম, বিশেষ দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপদ আকাশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আজ সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
