চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি | ১৮ জুলাই, ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও ছাত্রলীগের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে তাসমির (১৬) নামের এক কিশোরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার পর রেললাইনে লাশ ফেলে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
নিহত তাসমির উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মো. লিটনের ছেলে। সে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাসমিরের পরিবার ঐতিহ্যগতভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তাসমির নিজেও ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় ছিল। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর তীব্র ক্ষোভ ছিল তার ওপর।
স্বজনদের দাবি, গতকাল রাতে শুধু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ করার ‘অপরাধে’ তাসমিরকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার। এরপর তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। নির্মমভাবে পেটানোর পাশাপাশি তাকে তীব্র বৈদ্যুতিক শক (শর্ট) দিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে এবং একে সাধারণ রেল দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খুনিরা গভীর রাতে তার মরদেহ স্থানীয় রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে যায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এই নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তারা যখন চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করতে যান, তখন স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের তীব্র বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে নিহতের পরিবার এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করতে পারেনি বলে ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, তাসমির আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এর আগেও তিন দফায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চরম ‘মব’ সহিংসতা ও পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছিল। বারবার আক্রান্ত হওয়ার পরও সে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি, যার চূড়ান্ত খেসারত তাকে এবার নিজের জীবন দিয়ে দিতে হলো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই তাকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
