নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে একটি নতুন পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
জানা যায়, পরিদর্শন কক্ষটির নামফলকে শুধু নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম-এর নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম। নামফলকে নিজের নাম না থাকা এবং তাঁকে প্রধান অতিথি না করায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনেই কক্ষের ভেতরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা চলে।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হলো না? এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?” তিনি বিষয়টি দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, কোনোভাবেই তিনি ছাড় দেবেন না এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে নিজের অধিকার আদায় করবেন।
এর জবাবে সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন, এই পরিদর্শন কক্ষটি সকল সংসদ সদস্যের জন্য উন্মুক্ত। তবে যেহেতু এটি তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা, তাই নামফলকে তাঁর নাম থাকাটাই স্বাভাবিক। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো এলাকা না থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ও এম এ পারভেজ লিটন এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দুই পক্ষের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বাকবিতণ্ডার কারণে উদ্বোধনী আয়োজনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় এবং কক্ষের বাইরে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হয়।
জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অনেকে বলছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষের আরও বেশি সহনশীল হওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
