নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় টিসিবির পণ্য বিতরণকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে ইলিয়াস আলী (৭০) নামে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শৈলকুপা শহরের হাজী মোড়ে তাকে রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
নিহত ইলিয়াস আলী উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের মৃত জিয়ারত আলীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে শৈলকুপা পৌরসভার মালিপাড়া গ্রামে বসবাস করছিলেন। অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলাম শৈলকুপা পৌরসভার চতুড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শহরের মহিলা কলেজ রোডে টিসিবি ডিলার বিধান কুমার সাহার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য নিতে গিয়ে ইলিয়াস আলীর ছেলে রিসালত হোসেনের সঙ্গে চতুড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুপুরে ইলিয়াস আলী বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে শৈলকুপা শহরের দিকে যাওয়ার সময় হাজী মোড়ে পৌঁছালে মাজেদুল তাকে আটকায় এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই দিনই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহতের পুত্রবধূ সীমা খাতুন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে টিসিবির পণ্য নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে মাজেদুলের কথা কাটাকাটি হয়। দুপুরে আমার শ্বশুর বাজারে যাওয়ার পথে হাজী মোড়ে পৌঁছালে ওই যুবক রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে রাখে। আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।’
টিসিবি ডিলার বিধান কুমার সাহা বলেন, ‘সকালে বিতরণের সময় দুজনের মধ্যে তর্ক ও হাতাহাতি হয়েছিল। পরে জানতে পারি রিসালতের বাবাকে মারধর করা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।’
অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলামের মোবাইল ফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া যায়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল হয়নি। পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
