নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অঙ্কের হিসাব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা দিয়েছে। এই ব্যবধানের ফলে অর্থপাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেন ও বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে বিশাল ফারাক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘকাল ধরে চলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলসি (ঋণপত্র) পেমেন্ট মনিটরিংয়ের জন্য আধুনিক ড্যাশবোর্ড থাকার পরও এই ধরনের গরমিল দূর না হওয়ায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিসংখ্যানগত এই অসঙ্গতি কেবল সাধারণ কোনো হিসাবের ভুল নয়, বরং এটি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। সঠিক তথ্যের অভাবে একদিকে যেমন প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র আড়ালে পড়ে যাচ্ছে, তেমনি বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকিও বাড়ছে।
ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষ যখন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, তখন এ ধরনের বড় অংকের ব্যবধান জনমনে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা নিরসনে অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিবিএসের ডেটা সিস্টেমে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

