বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা/নয়াদিল্লি
নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার তরফ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি ও গোপন বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাঁর সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের গোপনীয়তা বজায় রাখতে চরম কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী নেতাদের বৈঠকে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, ঘড়ি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাথে নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি বৈঠকের সুনির্দিষ্ট ভেন্যু বা স্থানটিও গোপনীয় রাখা হয়েছে এবং তা নির্ধারিত সময়ে নেতাদের জানানো হবে। ভারতের চৌকষ গোয়েন্দা দলের বিশেষ সুরক্ষায় এই সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি অংশ নেবেন আমন্ত্রিত জ্যেষ্ঠ নেতারা। এদিকে এই বৈঠকের দিকে নিবিড় নজর রাখছেন নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত পশ্চিমা ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা।
রাজনৈতিক এই সূত্রের দাবি, দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য মূলত তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে স্থলপথে ফেরার পরিকল্পনাটি বেশ নাটকীয়ভাবে সাজানো হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি যদি স্থলপথে ফেরেন, তবে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে পা রাখার সময় ভারত থেকে তাঁর সাথে যোগ দেবেন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি বিশাল দল। পুরো ঘটনাটি একাধিক আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করার প্রস্তুতি রয়েছে।
বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথে “রোড মার্চ টু টুঙ্গিপাড়া” লেখা অসংখ্য ব্যানার প্রদর্শিত হবে। এপারে থাকবে গগনবিদারী স্লোগান ও জাতীয় পতাকার সমারোহ, আর ওপারে ভারত প্রান্তে বাজবে ঢাকঢোল। এছাড়া আকাশপথে ফেরার বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
এই পুরো প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক বার্তা বা পদক্ষেপ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনার সাথে তিন থেকে পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা ব্যক্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকতে পারেন।
এই সময়ে তাঁর নিরাপত্তায় জাতিসংঘ থেকে বিশেষ সতর্কতা বা বার্তা আসার গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বিরোধী বিবৃতি আসতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে নাটকীয় অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেও বিশেষ বার্তা আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এক সুদূরপ্রসারী ও অভাবনীয় পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

