ঢাকা: দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অটিজম, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। নিজ মেধা, যোগ্যতা এবং সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতিতে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্কুল সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার এই বিশেষায়িত শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে দ্রুত পরিচিত করে তোলে।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্য (২০১৪): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলের সদস্য হিসেবে যুক্ত হন।
- আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড প্রধান (২০১৬): ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইউনেস্কো (UNESCO) আয়োজিত প্রতিযোগিতার ইন্টারন্যাশনাল জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
- গুডউইল অ্যাম্বাসেডর (২০১৭): দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য WHO-এর অটিজম বিষয়ক গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হন।
- পলিসি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নে ইউনিসেফ (UNICEF), সার্ক (SAARC) এবং বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সম্মেলন ও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
- কমিশন মেম্বার (২০২২): যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের (Chatham House) কমিশন মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
- আঞ্চলিক পরিচালক (২০২৪): ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হন।
সায়মা ওয়াজেদের এই অর্জন কেবল কোনো একক ব্যক্তির সাফল্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কূটনীতি ও মেধাবী নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আন্তর্জাতিক সংস্থায় এমন একটি শীর্ষ পদে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের অবস্থান দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের এই সরব উপস্থিতি ও প্রতিনিধিত্ব ভবিষ্যতে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

