শেখ ত্বোহা: রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গলি দিয়ে শান্ত পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। গলায় ঝুলছিল একটি ব্যাগ। কোনো ঝামেলা বা বিপদের আভাস পাননি তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই উল্টে গেল দৃশ্যপট। সামনে থেকে আসা দুই যুবক আচমকা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, এক ঝটকায় কেটে নিল গলার ব্যাগটি, আর পলক ফেলার আগেই পেছনে থাকা একটি অটোরিকশায় উঠে হাওয়া হয়ে গেল। সর্বস্ব হারিয়ে বৃদ্ধটি পিছু ছুটেও আর তাদের নাগাল পেলেন না। সম্পূর্ণ ছিনতাই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ সেকেন্ড!
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন বিবিরহাট কাঁচাবাজারের ১ নম্বর গলিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়েছে স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরায়। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাতের ফাঁকা গলিতে বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে ধীরপায়ে এগিয়ে আসে দুই ছিনতাইকারী। তাদের পেছনে ধীরগতিতে অনুসরণ করছিল একটি অটোরিকশা। বৃদ্ধ কাছাকাছি আসতেই ছিনতাইকারীরা সরাসরি তাঁর কাঁধ ও গলায় ঝোলানো ব্যাগে টান দেয়। বৃদ্ধ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও বয়সের ভারে পেরে ওঠেননি। ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়েই ছিনতাইকারীরা প্রস্তুত থাকা অটোরিকশায় চেপে দ্রুত চম্পট দেয়।
প্রশাসনের তৎপরতা ও তদন্তের অবস্থা
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশের। আজ শনিবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী বৃদ্ধ কিংবা ছিনতাইকারীদের কারো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ব্যাগে কী পরিমাণ টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রবীণ নাগরিক ও ছিনতাইকারী চক্রটিকে শনাক্ত করতে তারা পুলিশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের তীব্র ক্ষোভ
ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। গলির ভেতর এমন প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্যে নগরবাসী তাঁদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন:
• নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “আমাদের গলিতে যদি এমন হয়, আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?”
• যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ছিনতাইয়ের সহজ বাহন হিসেবে উল্লেখ করে শাহেদ হোসাইন জানান, এসব যানবাহন অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
• প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে অসন্তোষ: শাহেদ, নাসির ও জামানোর রহমানের মতো একাধিক নেটিজেন শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের স্থবিরতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ ক্ষোভের বশে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।
নগরের অলিগলিতে নিয়মিত টহল জোরদার এবং অটোরিকশাভিত্তিক ছিনতাইকারী চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

