নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার, ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং সমাজে চলমান নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ছবি বা পোস্টারের সূত্র ধরে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সমাজে প্রচলিত অনাচার ও দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।
রুমিন ফারহানা তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “নিচের ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিভাজন আর ঘৃণা উস্কে দিতে। যারা ঘৃনার চাষকে ধর্ম ভাবেন তাদের বলছি…।”
এরপর সামাজিক ও ধর্মীয় ভণ্ডামির চিত্র তুলে ধরে ২২টি পয়েন্টে তিনি লেখেন, সমাজে বলাৎকার, ঘুষ গ্রহণ, শিশু নির্যাতন, মানুষ খুন কিংবা নারীর ওপর সহিংসতার মতো ঘৃণ্য অপরাধেও মানুষের ধর্ম যায় না। এছাড়া প্রতারণা, মিথ্যাচার, অন্যের সম্পদ লুটপাট, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেওয়া কিংবা বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে ফেলে রাখার মতো মহাপাপ করলেও কারও ধর্ম ক্ষুণ্ন হয় না। ধর্মকে ব্যবসা বা পাপাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও সমাজ চুপ থাকে।
সবশেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, “ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।”
ছড়িয়ে পড়া ছবির ভুল ও বিভ্রান্তি ধরে দিয়ে পোস্টের বিশেষ দ্রষ্টব্যে তিনি আরও যোগ করেন, “মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।”
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে রুমিন ফারহানার এই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর এই পোস্টকে ধর্মীয় ভণ্ডামি ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এক সময়োপযোগী বার্তা হিসেবে দেখছেন।

