ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
সভায় দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হলো দেশের জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শূন্য পদগুলোতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিগত দিনগুলোতে যারা দল-মত নির্বিশেষে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি, নিরপরাধ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের দ্রুত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন, সেসব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়।
দেশের সার্বিক সংকট উত্তরণে এবং জনস্বার্থ রক্ষার্থে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে:
- নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
- সেবা খাতের নিশ্চয়তা: বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সার সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা।
- শ্রমিকদের কর্মসংস্থান: বেকার হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা।
- রাজনৈতিক মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার: সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়া।
- ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান: তথাকথিত আইসিটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির রায় ও এই বেআইনি ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ বাতিল করা।
সভায় নেতৃবৃন্দ দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
