কুমিল্লা প্রতিনিধি:

মায়ের ব্যবহৃত দামী আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। অবশেষে একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হলো তার রক্তাক্ত মরদেহ। ইশায়াত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

​গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে ঘরে না ফেরায় পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়ে। ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকায় তার ফোনের অবস্থান ছিল। এর পরপরই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে স্বজনরা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন এবং শিশুটির মা নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানকে খুঁজে পেতে সবার আকুল সহায়তা চান।

​আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে স্থানীয়রা সানন্দা এলাকার জঙ্গলে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, কিশোরের কাছে থাকা দামী আইফোনটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে নিহত ইশায়াতের কাছ থেকে সেই আইফোনটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও কোটবাড়ি এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version