আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ তার পদত্যাগ এবং সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট-এ প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার শিকার হয়ে তাকে পেশাগত নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচও-র শীর্ষ নেতৃত্ব নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক সুরক্ষাবিধি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ছুটি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা
নিবন্ধে সায়মা ওয়াজেদ জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সংস্থার সার্বিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তিনি সাময়িক ছুটিতে যেতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নে রূপ নেয়। ২০২১ সালে কেনা একটি জমির প্লট নিয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তা তিনি ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’-এর আওতায় সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় কিনেছিলেন। নয়াদিল্লিতে ডব্লিউএইচও-র আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে প্রকাশ্যে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি
চীন সফর সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ স্পষ্ট করেন, অসুস্থতার কারণে সেই সফরটি আদৌ অনুষ্ঠিতই হয়নি। ২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে ডব্লিউএইচও-এর অভ্যন্তরীণ তদারকি বিভাগ (আইওএস) বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত সম্পন্ন করে এবং অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে মামলাটি চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ
সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুসের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ইথিওপিয়া সম্পর্কিত একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়লেও ড. টেড্রসকে বিনাবেতনে বা সাময়িক ছুটিতে যেতে হয়নি। সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ডব্লিউএইচও প্রধানের প্রথা বহির্ভূত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গোপন নথি ফাঁসের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের অনুরোধ জানানো হলেও ডব্লিউএইচও তা নাকচ করে দেয়।
অভিযোগমুক্ত হয়েও কেন পদত্যাগ?
দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিনাবেতনে থাকার পর এবং তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কেন পদত্যাগ করলেন—তার ব্যাখ্যায় সায়মা ওয়াজেদ লিখেন, “আমি পদত্যাগ করেছি এই কারণে নয় যে আমি কোনো ভুল করেছি বা আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। আমি পদত্যাগ করেছি কারণ সব অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পরও ডব্লিউএইচও নেতৃত্ব আমাকে কোনো ব্যাখ্যা, জবাবদিহিতা কিংবা কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে পারেনি। ফলে সেখানে আর অপেক্ষা করার মতো কোনো পথ খোলা ছিল না।”
নিজের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা ও মেধা মূল্যায়ন না করে কেবল পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে বৈষম্য করা জবাবদিহিতা নয়, বরং পক্ষপাতিত্ব। বর্তমানে মিথ্যা অপপ্রচার দূর করে নিজের পেশাগত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এবং মানবিক সেবামূলক কাজে ফেরাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
