স্থানীয় সংবাদদাতা: বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে সড়কপথে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীকে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়েছে।

​নিহত তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাসেল নামের এক যুবক তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পরই বাড়ি থেকে কিছু দূরে অচেতন অবস্থায় তরুণীকে বাইক থেকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন স্বজনেরা। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।

​হাসপাতালের ছাড়পত্রে মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ‘মাথায় তীব্র আঘাত’ উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দাবি, হাসপাতালে ভর্তির পরপরই চিকিৎসকদের ধর্ষণের বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকেরা জানান, সেই ওয়ার্ডে আলামত পরীক্ষার সুযোগ নেই, এর জন্য রোগীকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু ওসিসিতে স্থানান্তরের আগেই মারা যান তরুণী। শনিবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

​নিহতের পরিবারের অভিযোগের তীর তরুণীর সাবেক স্বামী বখতার আলী ও তাঁর সহযোগীদের দিকে। চার মাস আগে বখতারের সঙ্গে ওই তরুণীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পরিবারের দাবি, বখতারসহ অন্তত চারজন এই নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক স্বামী বখতার আলীকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি; ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version