নিজস্ব প্রতিবেদক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মাকে (৩৮) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। পাশবিক এই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার এক প্রবাসীর বাড়িতে এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে মো. রাজীব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী গফরগাঁও থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যেভাবে ঘটে ঘটনা
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়াসহ (২১) পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পানি পান করতে চায়। প্রবাসীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে আসামাত্রই যুবকেরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
এরপর তারা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আলমারিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। পরে ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় রাজীব তার মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা।
পুলিশের অভিযান ও ফোন উদ্ধার
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের আত্মচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। তবে এ সময় বাকি চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজীব ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি পানিতে ফেলে দেয়, যা পরে পুলিশ উদ্ধার করে।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
ভুক্তভোগী নারীর দেবর জানান, বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তার ভাবি বাড়িতে একাই থাকতেন। এই সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা ভাতিজাকে জিম্মি করে ভাবির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং লুটপাট করেছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, দুই যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে এবং বাকিরা বাইরে পাহারায় ছিল। এছাড়া ছেলেকে জিম্মি, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে। ভিডিও ধারণের বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
