নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মো. রনি হোসেন। ২০২৪ সালের জুনে তাঁকে সভাপতি করে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
রনি এখন পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে তাঁর বৃদ্ধ, অসুস্থ ও শয্যাশায়ী বাবাকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে।
রনির বাবা নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং একসময় কাদেরিয়া বাহিনীর প্রতিরোধযোদ্ধা ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ আছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
কারণ, গত দুই বছরে রাঙামাটিতে কার্যত নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ডের এই বৃদ্ধ নেতাকে গ্রেপ্তার করা কেন এতটা জরুরি হয়ে উঠল—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।
আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের আগের নেতৃত্ব নিয়ে।
আবদুল জব্বার সুজন প্রায় নয় বছর রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৫ সালের কমিটিতে তিনি সভাপতি হন এবং দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটি নিয়ে সংগঠনের ভেতর থেকেই টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল; তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরে ২০২৪ সালে নয় বছর পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সভাপতি হন রনি হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক সোহাগ চাকমা।
এখন প্রশ্নটি তাই শুধু একজন বৃদ্ধের গ্রেপ্তার নিয়ে নয়। প্রশ্নটি আইনের প্রয়োগের ধরন নিয়েও।
একজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর বাবা কি গ্রেপ্তার হবেন? কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির দায় কি তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যের ওপর বর্তাবে?
আইন যদি কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, সেটি হওয়া উচিত নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে। রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক যেন সেই ভিত্তি না হয়।
রাঙামাটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ক্ষমতার পালাবদল এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।
কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, মামলা হোক, বিচার হোক। কিন্তু বাবা-ছেলে, পরিবার কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়কে এক করে দেখার সংস্কৃতি শেষ হওয়া দরকার।
কারণ প্রতিশোধের রাজনীতি একসময় কারও ঘরেই থেমে থাকে না। শেষ পর্যন্ত তা পুরো শহরের সামাজিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সম্পাদকীয়
…..

