নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
গুলশানের বাসা ছেড়ে ক্যান্টনমেন্টে থাকতে চাইছেন তারেক রহমান।
সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নাকি মনে করছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য গুলশানের বর্তমান বাসভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। আর সে কারণেই অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি সুরক্ষিত বাসভবন খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে আওয়ামী লীগের বড় মিছিলের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন বাসভবন খোঁজার কাজে ব্যস্ত এমন আলোচনা সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান গুলশানের এই বাসভবনেই ওঠেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি গুলশানের বাসভবন ছেড়ে যমুনায় উঠতে চেয়েছিলেন। ইউনূস চলে যাওয়ার পর যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী সংস্কারও করা হয়।
কিন্তু যমুনার আশপাশে মিছিল-সমাবেশ হওয়ার সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শেষ পর্যন্ত সেখানে ওঠেননি তারেক রহমান। জনসমাবেশ এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরামর্শেই তাকে গুলশানে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বলে তখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে গুলশানের বাসভবনও যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে পরিস্থিতি এমন হলো কেন?
এতদিন তো বলা হয়েছে, তারেক রহমান প্রটোকল মানেন না। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে এমন খবরও প্রচার করা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী যানজটে আটকে পড়েন, এমনকি বাসভবন থেকে পায়ে হেঁটে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার ভিডিওও ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।
তাহলে হঠাৎ কী এমন পরিবর্তন হলো যে গুলশানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকাকেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনিরাপদ মনে করা হচ্ছে?
আরও বড় প্রশ্ন একটি মিছিলের পরই কেন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে?
তাহলে কি এতদিনের ‘জনসম্পৃক্ত’ থাকার প্রচারণা থেকে সরে এসে এখন আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকতে চাইছেন তারেক রহমান?
নাকি সামনে এমন কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রয়োজন পড়ছে?

