নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান। ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের মূখ্য দিকসমূহ
• বিদেশে অর্থ পাচার ও বিনিয়োগ: দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপে’ বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
• নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্য: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় ডিসি পদায়নে জেলাভেদে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
• প্রকল্প ও টেন্ডার দুর্নীতি: ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ প্রকল্পের ব্যয় ১,২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০-৩০% কমিশন আদায় এবং নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থ সরানোর প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
• পারিবারিক ও সহকারীদের সিন্ডিকেট: আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার সিন্ডিকেট পরিচালনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য মিলেছে। পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে।
• বিলাস জীবনযাপন: দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত কাজে হেলিকপ্টার ও পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে দুদক।
দুদক কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তাঁর বাবা ও সাবেক দুই সহকারীকেও এই অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দ্রুতই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

