নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে পুনরায় ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থান এবং কারাগারে বন্দিদের মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। গত ২৯ আগস্ট প্রেরিত এই চিঠিতে দেশের বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চিঠির শুরুতেই ড. মোমেন উল্লেখ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রশাসনের মদদে দেশে চরমপন্থি ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ছাড়াও সন্ত্রাসীরা বিদেশ থেকে জলপথে অস্ত্র সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির এবং গোপনীয় মতাদর্শ প্রচার বা ‘ইন্ডোকট্রিনেশন সেশন’ পরিচালনা করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, উগ্রপন্থিদের প্রভাবে দেশের গ্রামীণ জনপদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা, নারীদের খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আল-কায়েদা, আইএসআইএস এবং হিজবুত তাহরীরের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাংলাদেশ সফর দেশের ভেতরে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মোমেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সম্প্রতি কারাগারে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কারাগারগুলোর নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ১০০ হলেও বর্তমানে প্রায় চার লাখ বন্দি বিনা বিচারে ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই কারাবন্দি রয়েছেন।
জাতিসংঘে নিজের পূর্বের বিভিন্ন কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. মোমেন কারাবন্দিদের প্রকৃত অবস্থা তদন্তে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দল পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতি জোরালো আবেদন জানান।

