অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং তা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের অধিকারের জন্য লড়তে চাই এবং দেশে গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে চাই। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পাওয়া উচিত।”
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, “ব্যক্তিগত আবেগ বা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা যায় না। ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারত।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এবং দেশের উন্নতির স্বার্থে একটি পরিপক্ব, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। কোনো একক ব্যক্তির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বা ব্যক্তিগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দুটি দেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঐতিহাসিক বন্ধু। চীনও বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। এছাড়া জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আসিয়ান (ASEAN) এবং মুসলিম বিশ্ব—সবাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা অন্য যেকোনো দেশের সাথে সম্পৃক্ততায় কোনো সমস্যা নেই; সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন একটি দেশের সাথে সম্পর্ককে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি চরম জাতীয় সংকট অতিক্রম করছে এবং রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশে উগ্রবাদী শক্তিগুলো পুনরায় তাদের স্থান বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনগণের কাছে বাংলাদেশ ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর দেশে ফেরা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

