রাজধানী প্রতিবেদক :
রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হওয়া বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিসের শুরুতেই দেখা মিলল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার। একদিকে নারীদের আত্মবিশ্বাসী কর্মপ্রচেষ্টা, অন্যদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রীস্বল্পতা—সব মিলিয়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) এই নতুন উদ্যোগ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শাহজাহানপুর এলাকায় দোতলা একটি পিংক বাস ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়ে।
নারী চালক ফাহিমা সানজান ফ্লাইওভারের ঢাল বেয়ে বাসটি ওপরে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসটি উঠতে ব্যর্থ হলে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি চালকের আসনে বসেই গাড়িটি নিরাপদে থামিয়ে দেন।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই এক পুরুষ চালক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার তাৎক্ষণিক সহায়তায় বাসটি নিরাপদে ফ্লাইওভারে তোলা হয়।
এ ঘটনায় বাসে থাকা নারী যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা বা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
নারীদের জন্য প্রবর্তিত এই দোতলা গোলাপি বাস সার্ভিসটি চালুর পর থেকেই ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করলেও, বাস্তবে এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন রুটে ঘুরে দেখা গেছে চরম যাত্রীসংকট।
মতিঝিল বাস পয়েন্ট থেকে ছেড়ে যাওয়া দোতলা গোলাপি বাসটির ওপরের তলা ছিল পুরোপুরি ফাঁকা এবং নিচতলায় মাত্র দুজন নারী যাত্রী ছিলেন। মতিঝিল থেকে এলিফ্যান্ট রোড পর্যন্ত এই চিত্রই বজায় ছিল, পরবর্তীতে সায়েন্স ল্যাব এলাকায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী যুক্ত হন। যাত্রীস্বল্পতার কারণে অনেক নির্ধারিত স্টপেজে বাস না থামার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে এই রুটেও। শাহবাগ এলাকায় চলাচলকারী পিংক বাসটিতে মাত্র চার থেকে ছয়জন যাত্রীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারীদের কর্মসংস্থান ও যাতায়াত সহজ করার এই মহৎ উদ্যোগে জনমনে আগ্রহ থাকলেও, রুট পরিকল্পনা উন্নত করা এবং নিয়মিত যাত্রী বাড়ানোই এখন এই সেবার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

