ঢাকা ও নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত কুমার দোভালের অত্যন্ত গোপন ও আকস্মিক ঢাকা সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রবীণ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুবীর ভৌমিকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই সফরের চাঞ্চল্যকর ও নেপথ্য তথ্যগুলো প্রকাশ্যে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় ১০ দিন আগে সংঘটিত অজিত দোভালের এই অতি গোপন ঢাকা সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রশাসনের প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি ও গোয়েন্দা কৌশল বিষয়ক বিশেষ আলোচনায় এই সফর সম্পর্কে বিস্ফোরক ও এক্সক্লুসিভ তথ্য প্রকাশ করেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক।
সুবীর ভৌমিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অত্যন্ত প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান অজিত দোভাল সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে ঢাকায় এসে পৌঁছান এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় ও নীতিনির্ধারকদের সাথে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক পরিচালনা করেন। সেই বৈঠকে বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে যে কড়া বার্তাগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিম্নরূপ:
- জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানে শূন্য সহনশীলতা: উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় যদি কোনো প্রকার ভারত-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী, উগ্রবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে দিল্লি তার কঠোরতম জবাব দেবে।
- সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও চরমপন্থা দমন: সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চলমান উগ্রবাদী তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থের পরিপন্থী কোনো অবস্থান বরদাশত করা হবে না বলে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে সরাসরি ও আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
- রাজনৈতিক অস্তিত্বের হুঁশিয়ারি: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রয়াস তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্যই মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে—এমন বার্তা জোরালোভাবে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, এই বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
অজিত দোভালের এই গোপন ঢাকা ‘স্ট্রাইক মিশন’ এবং তারেক রহমানের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক গবেষকদের মতে, এই মিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে— বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ভারত-বিরোধী অপশক্তি নির্মূলে দিল্লি কোনো ছাড় দেবে না। একই সাথে দিল্লির এমন প্রকাশ্য কৌশলগত সতর্কবার্তা বর্তমান রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

