নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রাজধানীর দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় যখন সর্বস্তরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই অনন্য মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সাধারণ রিকশাচালক। চুনকালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া কবির প্রতিকৃতি নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করতে হাত বাড়ান খেটে খাওয়া এই মানুষটি। তার এই অসাধারণ কাজ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় তুলেছে।
আজ ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে এ চুনকালি দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন বিশিষ্ট মনীষীর প্রতিকৃতি আঁকা রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী ও নান্দনিক রূপ দিতে এ উদ্যোগ নেয়। একই সাথে সেখানে স্থাপন করা হয় ডাস্টবিন ও বিশ্রামের বেঞ্চ।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই মনীষীদের স্মৃতিতে অহেতুক কালি লেপন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই জড়িত থাকার অভিযোগে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে।
তবে অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসায় রিকশাচালকের এগিয়ে আসার দৃশ্যই এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রে। পেশায় সাধারণ শ্রমজীবী হলেও সংস্কৃতি ও জাতীয় মনীষীদের প্রতি তার যে গভীর আত্মিক দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে, তা মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। তার এই বার্তা পরিষ্কার করে দেয় যে— শিল্প, সাহিত্য ও মনীষীদের সম্মান জানাতে কোনো প্রভাবশালী অবস্থান বা উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন কেবল একটি প্রজ্ঞাবান ও সংবেদনশীল মনের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কালি মোছার ছবি হু হু করে ছড়িয়ে পড়ার পর সংস্কৃতি অঙ্গনসহ শোবিজের অনেক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে কুর্নিশ ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অন্যায়ের বিপরীতে এক সাধারণ নাগরিকের এই ইতিবাচক উদ্যোগ পুরো দেশের মানুষের কাছেই এক সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ার বড় অনুপ্রেরণা হয়ে রইল।

