বিশেষ প্রতিনিধি: ‘জুলাইকে বিক্রি করে এনসিপি থেকে শুরু করে সমন্বয়ক ও উপদেষ্টা—এরা সবাই দুর্নীতিবাজ। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এদের দুর্নীতি জাতির সামনে স্পষ্ট হবে এবং এই জাতি এদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।’
১লা সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ও ক্ষতের বিচার চেয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন আহত জুলাইযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন। সরকারি সাহায্য ও অনুদানের চেকে ঘুষের দাবি, অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা, হামলা এবং গুমের হুমকির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি গণমাধ্যমের সামনে এই জঘন্য অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
হয়রানি ও ঘুষের দাবি
জাইকার প্রাক্তন প্রকৌশলী ও আন্দোলনে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ গিয়াস উদ্দিন জানান, জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমআইএস-এ তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনুদানের চেকে সই করার নামে তাঁকে ঘোড়ানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের আশ্বাসে তিনি অফিসে গেলে চেকে সই করার সুযোগ হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের অনুদান বাবদ মোট ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ হলেও ফাউন্ডেশনের একটি দল তাঁর কাছে এর ৫০ শতাংশ কমিশন হিসেবে দাবি করে।
অন্ধকার রুমে নির্যাতন ও গুমের হুমকি
ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অফিসের পেছনে আলোহীন এক অন্ধকার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমি প্রতিবাদ জানালে চারজন মিলে আমাকে ঘুষি, কিল ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। ধাক্কা খেয়ে লোহার একটা বস্তুর সাথে মাথায় আঘাত পাই এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরলে পানি চাইলে তারা আমাকে পানি দেয়, কিন্তু পরপরই আবার নির্যাতন চালিয়ে হুমকি দেয়—তাদের কথা না শুনলে লাশ গুম করে ফেলা হবে।”
আদালতে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজের চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে চরম প্রতারণার শিকার গিয়াস উদ্দিন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের চক্রান্ত ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা করেছেন, তারা হলেন:
• প্রধান অভিযুক্তগণ: ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর ও আফজালুর রহমান সায়েম।
• অন্যান্য আসামি: হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
একদিকে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা আহত যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন, অন্যদিকে শহিদ ও আহতদের নামে সংগৃহীত অর্থ আত্মসাতের এই গুরুতর অভিযোগ পুরো দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে এসব দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

