নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে রেখেই দেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলেছে। দলের ভেতরে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’-এর ধারণা বাতিল করে শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা ও ছায়ায় তুলনামূলক কম বিতর্কিত এবং পরীক্ষিত নেতাদের প্রকাশ্য নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা, উপজেলা, থানা এবং দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর নির্দেশনা অনুসারেই দল পরিচালিত হবে। যদি তিনি দেশে ফিরে কারাবন্দি হন কিংবা ফিরতে না পারেন, তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত নতুন নেতৃত্বই দলের কার্যক্রম সচল রাখবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনো ধরনের পরিবর্তন মেনে নেবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সক্রিয়তা ও ত্যাগের মূল্যায়ন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আগের অনেক প্রভাবশালী ও নিষ্ক্রিয় নেতা বাদ পড়তে পারেন। বিগত রাজনৈতিক সংকটে যারা পলাতক ছিলেন কিংবা নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেননি, তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি। এর বিপরীতে, দুর্দিনেও যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন, এমন নেতাদের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, শ ম রেজাউল করিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ডা. হাবিবে মিল্লাতসহ বেশ কয়েকজন নেতা অনলাইন ও ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা দিচ্ছেন। কঠিন সময়েও সক্রিয় থাকায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম, শ ম রেজাউল করিম ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মতো নেতারা নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন।
দেশ ও বিদেশে তৎপরতা দেশের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্নভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের নজরদারি করছেন। কারাবন্দি থাকা সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেও যোগ্য ও পরীক্ষিত মুখগুলোকে নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় মূল্যায়ন করা হতে পারে।
দলের নেতারা আশা প্রকাশ করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দলের ভেতরে একাধিক বিকল্প রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে, যেন যেকোনো পরিস্থিতিতেই দল ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল থাকে।

