নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ সংবিধানসম্মত হয়নি বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন—এমন কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অন্যদিকে, ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য। এছাড়া ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টিও সুস্পষ্ট। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় এ ধরনের নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার না করে পদ গ্রহণ করাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে টিআইবি একে “শুট দ্য মেসেঞ্জার” বা বার্তাবাহককে ঘায়েল করার সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সঠিক তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে সংবাদকর্মীরা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, তখন প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর না দিয়ে ‘কে নিউজ করছে’ এবং ‘কার এত জ্বালা’ বলে পাল্টাপ্রশ্ন করেছেন; যা পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের চর্চারই প্রতিফলন। সংবাদটি কে করেছে বা কে প্রশ্ন তুলেছে, তা এখানে মূল বিষয় নয়। মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না। এমন একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তাঁর দায়িত্ব ছিল।”
তবে এই বিতর্কের বিপরীতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইতিমধ্যে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তাঁর শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সংবিধান মেনেই দেশ পরিচালনা করছে।
পরিশেষে, মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাক্স্বাধীনতা এবং জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার খর্ব করার যেকোনো আত্মঘাতী প্রয়াস পরিহার করার জোর আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

