জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর মতো গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

পটুয়াখালী সদর উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী ও পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই আশঙ্কাজনক ও স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার শিকার ওই নারী ন্যায়বিচারের আশায় পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে স্বামী হারানোর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন ওই নারী। সেখানে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করা ও কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় একপর্যায়ে শহিদুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

গত ২৪ মার্চ সকালে বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে প্রথম দফায় ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হলে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

নারীটি সন্তান ভূমিষ্ঠ করার পক্ষে অটল থাকলে শহিদুল নির্মম পথ বেছে নেন। গত ১৮ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে নারীকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। একদিন পর জ্ঞান ফিরলে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, “অসহায় বিধবা নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে যেভাবে প্রতারণা, একাধিকবার ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক অনাগত সন্তান হত্যা করা হয়েছে—তা অত্যন্ত জঘন্য। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন,

“আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ঘটনা ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হওয়ায় পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রাথমিকভাবে শহিদুলের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদালত যদি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিঃস্ব ও অসহায় ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্ত শহিদুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version