নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ২৫ মে, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। গত ২৪ মে সন্ধ্যায় হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে বসা নিয়ে তর্কের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম অভয় কুমার সিংহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথ হলের ১১১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট ও হল প্রশাসন বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভয় কুমার সিংহের পায়ে সমস্যা থাকায় তিনি রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে একটি বেঞ্চে পা তুলে বসেছিলেন। সে সময় সেখানে চন্দন দাস ও ঝলক দাস নামে দুই শিক্ষার্থী এসে তাকে পা নামিয়ে বসতে বলেন। অভয় তাদের জানান যে, তার পায়ে সমস্যা থাকায় এবং পর্যাপ্ত জায়গা খালি থাকায় তিনি পা তুলে বসেছেন, কেউ আসলে তিনি পা নামিয়ে নেবেন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে অভয় কুমার সিংহ তার রুমে ফিরে গেলে চন্দন দাস ও ঝলক দাসের নেতৃত্বে একদল যুবক তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং থাপ্পড় মারে।
ভাইরাল হওয়া তথ্য ও ছাত্রদলের কমিটির তালিকা অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের পদধারী নেতা। তারা হলেন—যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস এবং রিপন চন্দ্র সরকার। এছাড়াও সাগর ও সৌরভ নামে আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ এই ঘটনাকে অমানবিক ও লজ্জাজনক উল্লেখ করে ২৫ মে’র মধ্যে হল প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি ডাকসু ও গণমাধ্যমের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

