চট্টগ্রাম ব্যুরো:
অপশক্তির চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আরও একবার ইতিহাস সৃষ্টি করলো বীর চট্টলার লড়াকু ছাত্রসমাজ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ সকল রাজবন্দির বীরত্বপূর্ণ নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক বিশাল ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১লা জুন সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু এর দিকনির্দেশনায় ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে এই সুবিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ছাত্রলীগের হাজার হাজার দেশপ্রেমিক ও আদর্শিক নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
মিছিলটি ওমরগণি এমইএস কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে আশপাশের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল ও বিশাল পদযাত্রা পথচারী ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়ে। নেতাকর্মীদের কণ্ঠে স্বৈরাচারী ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে উত্তাল স্লোগান পুরো এলাকাকে প্রকম্পিত করে তোলে।
মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঐতিহাসিক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা বলেন: “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি ও মানুষের দল। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এই দলের ত্যাগ অতুলনীয়। আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী।”
বক্তারা আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে অনতিবিলম্বে এসব হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দেশের সেবকদের কারাগারে বন্দি রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সমাবেশে উপস্থিত ছাত্রজনতা ও সাধারণ মানুষ এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের এই সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। রাজপথের এই বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে যে, কোনো অন্যায়ের কাছে তারা মাথা নত করবে না। কর্মসূচি শেষে বীর চট্টলার ঐতিহ্যবাহী ছাত্ররাজনীতির ধারা বজায় রেখে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
সংগ্রামের এই রাজপথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন—যতক্ষণ না পর্যন্ত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে এবং রাজবন্দিরা সগৌরবে মুক্ত বাতাসে ফিরে আসছেন, ততক্ষণ তাদের এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন থামবে না।
