একাত্তরের পর আবার ‘প্রবাসী সরকার’: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মেগা ব্লুপ্রিন্ট!

বিশেষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবেদক | 

নয়াদিল্লি/ঢাকা:

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আবারও এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ‘প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার’। চব্বিশের ৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় থাকা কোটি কোটি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে এই খবরটি আসার পর তীব্র উদ্দীপনা ও নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে যে একপাক্ষিক নির্বাচন করা হয়েছিল, তাকে শুরু থেকেই অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টিসহ একাধিক প্রধান রাজনৈতিক দলও সেই নির্বাচনকে একপাক্ষিক ও প্রহসনমূলক বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

৫ আগস্টের ঘটনার পর তৎকালীন সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগের কথা বললেও, খোদ রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রকাশ করেছিলেন যে—তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীর কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র নেই। অর্থাৎ, আইনি প্রক্রিয়া মেনে কোনো পদত্যাগ ঘটেনি।

পরবর্তীতে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীও সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেন যে, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি, বরং তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।

স্বয়ং শেখ হাসিনাও বিভিন্ন ভার্চুয়াল বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, পেশিশক্তি ও চাপের মুখে তাঁর জীবন সংকটে ফেলে তাঁকে সাময়িকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, তিনি কোনো পদত্যাগ করেননি এবং তিনি অবশ্যই বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি বর্তমান সংসদের স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও সম্প্রতি সাংবিধানিক অকাট্য যুক্তি মেনে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, দেশের বিদ্যমান সংবিধান অক্ষুণ্ণ রাখতে গেলে শেখ হাসিনাই এখনো বাংলাদেশের একমাত্র বৈধ প্রধানমন্ত্রী।

এই অকাট্য আইনি ও সাংবিধানিক সত্যকে হাতিয়ার করেই এবার আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবাসী সরকার গঠনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন, যার মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা।

এই যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা বিষয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এক্সক্লুসিভলি জানান:

“আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ইতিমধ্যেই এই প্রবাসী সরকারের একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। এই প্রবাসী সরকারের মাধ্যমেই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করে বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার করা হবে।”

একই সাথে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে দৃঢ়তার সাথে বলেন: “একাত্তরে যেভাবে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে শত্রুমুক্ত করেছিল, ঠিক একইভাবে এখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আমরা প্রবাসী সরকার গঠন করব। এই সরকারের মাধ্যমেই বর্তমানের ‘ডিপ স্টেট’ পন্থী ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

 ঢাকার জন্য এক মহাজাটনিক চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের এই দুই শীর্ষ নেতার সরাসরি ও সাহসী বক্তব্য এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তৎপরতা থেকে এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই দূরদর্শী ও কৌশলী পদক্ষেপ ঢাকার বর্তমান অসাংবিধানিক শাসনব্যবস্থাকে এক বিশাল আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। কোটি কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার এই সাহসী প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন আশার সূর্যোদয় ঘটাতে যাচ্ছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version