“৮৯০ টাকায় কৃষকের ঘাম: ধানের দামে ধস, সরকার কি তবে নীরব দর্শক?”

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

মাঠে সোনালী ধানের হাসি থাকলেও কৃষকের মুখে নেই হাসির লেশমাত্র। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধানের বাজারদর মণপ্রতি মাত্র ৮৯০ টাকায় নেমে আসায় চরম সংকটে পড়েছেন দেশের অন্নদাতারা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদরের এই বিশাল ব্যবধান এখন কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এক বিঘা (৩০ শতাংশ) জমিতে ধান চাষ করতে সার, বীজ, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় প্রায় **১১,০০০ টাকা। সেই জমি থেকে গড়ে ধান উৎপাদন হয় ১৩ থেকে ১৫ মণ।

বর্তমান আয়: ১৫ মণ \times ৮৯০ টাকা = ১৩,৩৫০ টাকা।খরচ: ১১,০০০ টাকা (পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদে)।

নিট লাভ: নামমাত্র ২,০০০-২,৫০০ টাকা (যা ৪-৫ মাসের পরিশ্রমের তুলনায় নগণ্য)।

অনেক ক্ষেত্রে নিচু জমি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন কম হলে কৃষককে সরাসরি লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, *“সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী, শুধু আমাদের ঘামের দাম নেই। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন সংসার চালাব না কি দেনা শোধ করব?”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ধানের এই দরপতনের পেছনে কাজ করছে শক্তিশালী **মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্র। কৃষকরা যখন সরাসরি বাজারে আসেন, তখন সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য পান না।

 প্রশ্ন উঠেছে, সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্য কি কেবল কাগজে-কলমে?

 দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

 3. কৃষকের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি ক্রয়কেন্দ্র কেন পৌঁছাচ্ছে না?

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এভাবে লোকসান হতে থাকলে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

“যদি কৃষক তার ঘামের নায্য পাওনা না পায়, তবে তারা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।”

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকরা তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন যেমন, মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা।

 উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) পুনঃনির্ধারণ।

 সার, বীজ ও বিদ্যুতে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *