নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
ভয়াবহ তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুতের অসহনীয় বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের ঘাটতি এখন কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের তীব্র সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সতর্ক করেছে যে, বর্তমান মজুদ দিয়ে মাসের শেষার্ধ নাগাদ অনেক কেন্দ্র সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী, গাজীপুর, বগুড়া এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ফলনে। রাজধানীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতি এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। বিজিএমইএ-এর তথ্যমতে, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ কমে গেছে। কারখানায় জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল ও অকটেনেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
তীব্র গরমে বৃদ্ধ ও শিশুদের অসুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেহরি ও ইফতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি আমদানির জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের চেষ্টা করছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ডলার সংকটের কারণে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।

