পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে আবাসিক মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু ইউসুফ (৪০) নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসা ও ওই শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত নুরানী মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। আটক আবু ইউসুফ জেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন আবু ইউসুফ। মাদ্রাসাটিতে আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল এবং তিনি স্ত্রীকে নিয়ে প্রাঙ্গণেই বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাড়িতে যাওয়ায় তিনি মাদ্রাসায় একা ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রী বাইরে বের হলে শিক্ষক আবু ইউসুফ তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন একত্র হয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। এ সময় মাদ্রাসার অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাদের অভিভাবকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান জানান, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

