রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় দিনের আলোতেই ঘটল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। নিজ বাড়ির অদূরেই দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন ফখরুল আলম রতন (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফখরুল আলম রতন ওই গ্রামেরই প্রয়াত মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পূর্বে একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং নিজের জমিজমা দেখাশোনা করতেন। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নয়নের বড় ভাই এবং নিজেও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও স্বজন রেখে গেছেন।
ঘটনাক্রম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে রতন নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রতনের আর্তচিৎকারে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মাটিতে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী?
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমাসহ বেশ কিছু বিষDistrict সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল স্থানীয় কয়েকজনের সাথে। সেই বিরোধ ও শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চাপা আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের একটাই দাবি—অবিলম্বে যেন ঘাতকদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

