নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসবে সাধারণত ওপার বাংলার খাবার পাতে স্থান করে নেয় বাংলাদেশের পদ্মার রূপালী ইলিশ। বছরের পর বছর ধরে এটাই নিয়ম। কিন্তু এবার দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যাওয়ার বদলে, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ইলিশ ঢুকেছে বাংলাদেশের বাজারে। পদ্মায় ইলিশের আকাল মিটাতে ভারতের গুজরাট থেকে আমদানিকৃত ইলিশেই এখন মিটছে বাংলাদেশি ভোজনরসিকদের চাহিদা।
গত জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে গুজরাটের ভারুচ বন্দর এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের মতে, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। সাধারণত রুই, পারসে কিংবা ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশ রপ্তানি করা হলেও এবারই প্রথম ভারতে উৎপাদিত ইলিশ পাঠানো হলো ওপারে। বাংলাদেশে ইলিশের আশঙ্কাজনক ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
• উৎপাদনে ধস: বিশ্বজুড়ে ইলিশের মোট জোগানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ধরেন বাংলাদেশের জেলেরা। তবে চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে ইলিশের উৎপাদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
• কেন গুজরাটের ইলিশ: এ বছর ভারতের গুজরাট উপকূলে ইলিশের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামেও তুলনামূলক সস্তা।
• ডিমওয়ালা মাছের চাহিদা: গুজরাটের এই ইলিশগুলোর পেটে ডিম রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে মাছের ডিমের আলাদা সমাদর থাকায় এবং নোনা পানির মাছের প্রচলন বেশি হওয়ায় সেখানে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
হাওড়ার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারের ঘাটতি সামাল দিতে আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন গুজরাটি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর কথাবার্তা ও প্রস্তুতি চলছে। পদ্মার ইলিশের খরা কাটবে কি না তা সময়ের অপেক্ষা, তবে আপাতত ভারতীয় ইলিশেই মিটছে ওপার বাংলার স্বাদের ঘাটতি।

