ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা দীর্ঘ সংস্কার শেষে সম্প্রতি এক জমকালো আয়োজনে পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে সংগ্রহশালার ফিতা কাটার পর এর ভেতরের দৃশ্য ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ।
সংগ্রহশালার নতুন সাজসজ্জায় সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনের দিকে নজর পড়েছে, তা হলো—বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ও ভাষা আন্দোলন থেকে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিকসহ মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবিগুলোর অনুপস্থিতি। অথচ এর বিপরীতে সংগ্রহশালায় নতুন করে ঠাঁই পেয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষাকে অস্বীকারকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত আলোকচিত্র।
ডাকসুর নবনির্বাচিত প্যানেল কর্তৃক বাস্তবায়িত এই সংস্কার উদ্যোগে ১৯২১ সালের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্থান পেয়েছে। কিন্তু ইতিহাস উপস্থাপনে মারাত্মক ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ তুলছেন শিক্ষার্থী ও ইতিহাস বিশ্লেষকরা।
সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিনটি চিত্র স্থান পেয়েছে—যার মধ্যে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার ঐতিহাসিক সেই স্থিরচিত্রটি অন্যতম। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কোনো ছবি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডাকসুর বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক সংসংবাদ মাধ্যমকে জানান, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।” পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ১৯৭২-৭৫ সময়ের দুটি পেপার কাটিং এবং তাঁর ছেলেদের বিয়ের ছবি রেখে কেবল বিতর্কিত সময়টুকু তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিগত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সাবেক দায়িত্বশীলরা অভিযোগ করেন, “ইতিহাসের মূল নায়ককে আড়াল করে পাকিস্তানমুখী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এই সংস্কার করা হয়েছে।” এমনকি ১৯৯১ সাল থেকে সংগ্রহশালার দায়িত্ব পালন করা সাবেক কিউরেটর স্পষ্ট নিশ্চিত করেছেন যে, ডাকসুর ইতিহাস সংগ্রাহালয়ে অতীতে কখনোই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা হয়নি।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ডাকসু কমিটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তৎকালীন জিএস গোলাম রাব্বানী কিংবা স্থলাভিষিক্ত রাশেদ খাঁন—কারো নামই সংগ্রহশালার বোর্ডে রাখা হয়নি, যা ওই ঘরের খালি স্থান হিসেবে এখনো ঝুলছে।
কোনো পেশাদার কিউরেটর ছাড়াই সম্পন্ন করা এই বিতর্কিত সংস্কার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

