নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেট নগরের রায়নগরে একটি বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসা থেকে এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকার সুযোগেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
বুধবার সকালে নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— ব্যবসায়ী ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা এবং সিলেট চেম্বারের পরিচালক আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)। নিহত দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুই জন যুক্তরাজ্য এবং দুই জন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। বাসায় ওই প্রবীণ দম্পতি একা থাকতেন এবং গৃহপরিচারিকা তাঁদের দেখাশোনা করতেন।
নিহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকেও নিহতের ভাগনে মুন্না মিয়ার সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। এরপর সকাল ৯টার পর যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়ারা সকালে বাসায় চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই অপরাধীরা বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে আশপাশের অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। মূল্যবান জিনিসপত্র বা স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা কিংবা পূর্ববিরোধ—সব দিক মাথায় রেখেই কাজ করছে পুলিশ। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি, পিবিআই, ডিবি ও ক্রাইম সিন ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সিলেটজুড়ে তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

