নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় তীব্র সার সংকটের মুখে কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক জোট হয়ে ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিলেও বাকি ১৬৪ বস্তা সার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আজ ২৩ আগস্ট, রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের নামে মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ রয়েছে, যার বিপরীতে গুদামে ৩৪০ বস্তা সার মজুত ছিল। সকাল থেকেই প্রায় দুই শতাধিক কৃষক সারের আশায় ডিলার পয়েন্টে এসে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুদামের দরজা না খোলায় উপস্থিত কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে তারা সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরের দিকে ঢোকেন এবং একের পর এক সারের বস্তা নিয়ে স্থান ত্যাগ করতে শুরু করেন। এভাবে মোট ১৯৭ বস্তা সার ডিলার পয়েন্ট থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে অবশিষ্ট থাকা সার নিরাপদে রক্ষা করে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরবর্তী সময়ে ৩৩ জন কৃষক স্বেচ্ছায় ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে কৃষকদের সারের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা, যার বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এমনকি প্রকৃতপক্ষে উত্তোলিত সারের পরিমাণ আরও কম ছিল। চাহিদার তুলনায় এই বিশাল ঘাটতির ফলেই সার না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষকেরা এমন বিশৃঙ্খলা ঘটান।
তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে অবশিষ্ট সার রক্ষা করে এবং ফেরত আসা সার ব্যতীত বাকি বস্তাগুলো উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

