নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
নৃশংসতার চরম এক কালো অধ্যায় উন্মোচিত হলো মাদারীপুরের শিবচরে। মা শাম্পা আক্তারকে (২২) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গঠিত ক্লুলেস রহস্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নদী থেকে উদ্ধার করা হলো তার এক বছর বয়সী অবোধ শিশু আবিরের মরদেহ।
মা হত্যার ঠিক পাঁচ দিন পর, সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের মন্নান হাজীর মোড় সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে শিশু আবিরের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে শিবচর থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মরদেহটি মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির সূচনা গত ১৯ আগস্ট সকালে। শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার নির্জন জমির ঝোপ থেকে নাটোরে লালপুরের মেয়ে ও স্থানীয় মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের স্ত্রী শাম্পা আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই নির্মম ঘটনার পর ২০ আগস্ট নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ ও র্যাব-৮-এর একটি সমন্বিত দল। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে। নিবিড় জিজ্ঞাসাসাবাদে ফারুক মোল্লা স্বীকার করে শাম্পাকে কেবল ধর্ষণ ও হত্যাই করা হয়নি, তার কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া নিষ্পাপ শিশু আবিরকেও নির্মমভাবে হত্যা করে নদের স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের পাশবিক অপরাধে যুক্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিচার সুনিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

