নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা।
এই ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ড. মোমেনের মতে, শেখ হাসিনার ফেরার খবরে চক্রান্তকারীরা নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের জোটবদ্ধ অপচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি প্রশ্ন তোলেন—জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকা একটি দল ও তার নেতৃত্বকে কতটা সময় দূরে রাখা সম্ভব? ইতিহাস প্রমাণ করে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণমানুষের সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়েছে, যা কোনো সাময়িক রাজনীতির ছকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মনে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দূরদর্শী শাসনের প্রয়োজনীয়তা আবারও তীব্রভাবে অনুভুত হচ্ছে।
বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ড. মোমেন দাবি করেন: শেখ হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ৬৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক দক্ষতার কথা স্মরণ করছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জনজীবনের সুরক্ষায় শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়:
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য: শেখ হাসিনা সরকারের আমল যেখানে ৬.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা বজায় ছিল, বর্তমানে তা কমে ৩.২%-এ নেমে এসেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও শিল্পখাত:অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা পুনর্ব্যক্ত করে যে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার: শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর নিপীড়ন এবং শিক্ষাঙ্গনে অনিশ্চয়তা দূর করতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
ড. মোমেন তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, জাতীয় সংকট নিরসন এবং অর্থনীতি ও স্বাভাবিক জনজীবন পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ হলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা।
“দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই মুহূর্তে দেশ ও জাতির টেকসই উন্নয়নের একমাত্র রাজনৈতিক সমাধান।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. মোমেনের এই বক্তব্য এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবদান এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির অবধারিত প্রাসঙ্গিকতাকেই পুনর্প্রতিষ্ঠিত করে।

