নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর: চাঁদপুরে গত কয়েক মাসে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎহীনতার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চুরির পর নতুন সংযোগ পেতে গ্রাহকদের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু মতলব উত্তর উপজেলাতেই ২৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলায় আরও ১২টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।
চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাড়ে আট লাখ গ্রাহকের সেবায় প্রায় ৪০ হাজার ট্রান্সফরমার রয়েছে। কিন্তু সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তৎপরতায় এই সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. অহিদুজ্জামান জানান, একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এবং সুযোগ বুঝে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ না থাকাকে মানুষ স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে করে, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় চোরেরা।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জিএম আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “মতলব এলাকায় চুরির মাত্রা অন্য এলাকার তুলনায় বেশি। তবে চুরি ঠেকাতে আমরা এলাকায় মাইকিং, উঠান বৈঠক ও বিশেষ সভা করেছি এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।”
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, ট্রান্সফরমার চুরির পর নতুন সংযোগ নিতে প্রথমবার গ্রাহককে খরচের অর্ধেক এবং পরবর্তী সময়ে পুরো ব্যয় বহন করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎহীনতার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জীবগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “সন্ধ্যার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জানতে পারি আমাদের এলাকার ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গেছে। এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।” হাজীগঞ্জ উপজেলার ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফরমার আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ালে আমরা স্থানীয়ভাবে সেগুলো পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতাম।”
ট্রান্সফরমার চুরি রোধে থানায় নিয়মিত মামলা করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, “ইতিমধ্যে শাহরাস্তিসহ বিভিন্ন থানায় চুরির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের আরও একটু সহযোগিতা পেলে এই চক্রের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। চোরদের দমনে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”
বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকসহ সচেতন মহল।

